বিড়ালের স্পে সার্জারির নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন বাংলাদেশী ভেটেরিনারিয়ানদের, বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশ

পোষাপ্রাণি হিসেবে বিড়ালের কদর সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। বিড়ালের অতিরিক্ত বংশবিস্তার রোধে পালনকারীগণের ভেটেরিনারি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা। সাধারণত স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের উপায় হিসেবে সার্জারির মাধ্যমে মেয়ে বিড়ালের ওভারি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এই অপারেশনকে বলা হয় ওভারিওহিস্টারেকটমি (Ovariohysterectomy), সাধারণভাবে স্পেয়িং (Spaying) বলা হয়।

এই অপারেশনটি কিভাবে আরও সহজভাবে, কম বেদনাদায়ক উপায়ে এবং দ্রুত রিকভারি করানো যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন এই গবেষকদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ সোহাগ তালুকদার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। অবশেষে তাঁরা একটি টেকসই ও আধুনিক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। ৪০টি সুস্থ মেয়ে বিড়ালকে এই নতুন পদ্ধতিতে অপারেশন করা হয়। এতে জরায়ু, মাংসপেশি ও ত্বকের জন্য আলাদা করে মাত্র একটি করে সেলাই দেওয়া হয়, এই কারণেই নাম রাখা হয়েছে “১-১-১ টেকনিক”।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে খুব ছোট একটি কাট (মাত্র ০.৫–০.৭ সেমি) দিয়ে অপারেশন সম্পন্ন করা যায়, গড়ে অপারেশনের সময় লেগেছে মাত্র ১৪–১৬ মিনিট, অধিকাংশ বিড়াল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার খাওয়া ও চলাফেরা শুরু করেছে, ৭ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ক্ষত সেরে গেছে, কোনো ক্ষেত্রেই ইনফেকশন বা সেলাই ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি, অপারেশনের আগে বা পরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়নি।

পক্ষান্তরে, প্রচলিত স্পে সার্জারিতে সাধারণত ২–৫ সেমি পর্যন্ত বড় একটি চামড়া ও মাংসের অংশ কাটতে হয়, ২০–৩০ মিনিট সময় লাগে, নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, সেরে উঠতে ১০–১৪ দিন সময় লাগে। নতুন ১-১-১ টেকনিক এসব সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।

গবেষকদের মতে, সঠিক জীবাণুমুক্ত পরিবেশ (স্টেরাইল সার্জারি) ও নিখুঁত টিস্যু হ্যান্ডলিং বজায় রাখলে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও নিরাপদভাবে স্পে সার্জারি করা সম্ভব। এটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) কমানোর বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে গবেষকরা বলেছেন, এটি একটি প্রাথমিক (পাইলট) গবেষণা হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ও একাধিক কেন্দ্রে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা প্রয়োজন। যদি বৃহত্তর গবেষণায় একই ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে “১-১-১ টেকনিক” ভবিষ্যতে বিড়ালের স্পে সার্জারির ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড হিসেবে সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা হবে কম ব্যথাদায়ক, কম খরচের, দ্রুত আরোগ্যদায়ক এবং শূন্য বা একেবারেই কম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারযোগ্য।

গবেষণাপত্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, Elsevier জার্নালে গত ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে (১০০৫৮২)।

গবেষক দলে আরও ৭ জন ভেটেরিনারিয়ান যুক্ত ছিলেন, তারা হলেন – ডাঃ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, ডাঃ মোঃ জহির রায়হান, ডাঃ মোঃ জাহেদুল ইসলাম জুয়েল, ডাঃ রুপন ইসলাম শুভ, ডাঃ সাইফুল ইসলাম, ডাঃ সুলতান আহমেদ, ডাঃ এ টি এম মাহবুব-ই-এলাহী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *