বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টরের কিংবদন্তি ভেটেরিনারিয়ান ডাঃ এ বি এম শহীদুল্লাহ না ফেরার দেশে চলে গেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো সেক্টর। দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে অবশেষে হার মানতে হলো অমোঘ সত্য ‘মৃত্যু’র কাছে। ডাঃ এ বি এম শহীদুল্লাহ তাঁর দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন, সেবা দেন অসংখ্য খামারীকে, প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে রাখেন ব্যাপক অবদান। তিনি জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর, ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিফ ভেটেরিনারি অফিসার (সিভিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, গাজীপুর সাফারি পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানাসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি কনসালটেন্সি করতেন। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মের কনসালটেন্ট হিসেবে তাঁর ব্যাপক চাহিদা ছিলো।
তাঁর একসময়ের জুনিয়র সহকর্মী, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “ডাঃ এ বি এম শহীদুল্লাহ স্যার ভেটেরিনারি সেক্টরের সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি এই সেক্টরের প্রায় সকল শাখায় সমানভাবে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ডেইরি, পোল্ট্রি, পেট, ওয়াইল্ড অ্যানিমেল – সবকিছুর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর ছিলো অগাধ জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। এরকম একজন ভেটেরিনারিয়ানের মৃত্যু পুরো সেক্টরের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে বর্তমান শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ এ বি এম শহীদুল্লাহ। তিনি ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও জাপানের অবিহিরো ইউনিভার্সিটি অভ এগ্রিকালচার এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পেশাজীবন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ক্যাডারভুক্ত হয়।
গত বছর শরীরে ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উক্ত হাসপাতালেই গতকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিঃ) বিকেলে না ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুর সময় তিনি পরিবারে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ও জামাতাকে রেখে গেছেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান ও সাবেক মহাপরিচালক, পরিচালকবৃন্দ, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, অসংখ্য ভেটেরিনারিয়ান, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।
আজ শেরপুরের তাঁর জন্মভূমিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।