পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-এর বরিশাল ক্যাম্পাসের সহযোগিতায় এবং ‘দ্য কোস্টাল ভেট সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে চাঁদপাশা, বাবুগঞ্জ, বরিশালে দিনব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও খামারি সচেতনতা কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে।
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি), চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে এই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পবিপ্রবি-র ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল এবং মেডিসিন, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন পবিপ্রবি-র মেডিসিন, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. দিব্যেন্দু বিশ্বাস এবং ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের চিফ ভেটেরিনারিয়ান প্রফেসর ডা. সেলিম আহমেদ। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ টিমে সরাসরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে যুক্ত ছিলেন ১৪ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পবিপ্রবি-র ডিভিএম ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে ৮ জন ছিলেন নেপালি শিক্ষার্থী, যাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ক্যাম্পটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে এলাকার বিপুল সংখ্যক খামারি তাদের গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম ক্যাম্পে আগত পশুপাখির রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেন। এছাড়া পশুপালন ব্যবস্থাপনা, কৃমিনাশক ডোজের গুরুত্ব এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাম্পে অংশ নেয়া নেপালি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করা তাদের জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। তারা বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে এসে সরাসরি খামারিদের সেবা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে এখানকার মানুষ ও গবাদিপশুর প্রতি তাদের ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে। নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাণিপালন আর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনার মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও, রোগের ধরণ ও চিকিৎসায় অনেক মিল রয়েছে। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে আমরা যেমন শিখছি, তেমনি আমাদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে স্থানীয় খামারিদের সেবা দিতে পারছি, যা একজন হবু ডাক্তার হিসেবে আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় খামারিরা বাড়ির দোরগোড়ায় বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।